শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় ও পি.এন. কম্পোজিট লিঃ-এর মধ্যে এমওইউ অনুষ্ঠিত

আরএমজি সেক্টরে হাতে-কলমে কাজ শিখতে ফ্যাক্টরিতে, ফ্লোরে অবস্থান করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অধিকাংশই, বিশেষ করে নতুনরা, পলিশ অফিসে আরামকেদারায় বসে কাজ করতে বেশি আগ্রহী।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান পি.এন. কম্পোজিট লিঃ-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার শাহা। তিনি বলেন, “আপনাদের জন্য আমাদের দরজা সব সময়ই খোলা। আমরা কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে তাঁদের পেছনে নয়, বরং নিজ দেশের সন্তানদের জন্যই ব্যয় করতে চাই। শুরুতে কষ্ট কিংবা লোকসান হলেও তাঁদেরই কাজ শেখাতে চাই আমরা। কিন্তু যারা কাজ করবে, তাদেরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

আজ রবিবার, ১৬ আগস্ট, দুপুরে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের চূড়ান্ত পর্ব আপনাদের হাতে। আপনাদের আঙিনায় না গেলে, আপনাদের সহযোগিতা না পেলে তা অসম্পূর্ণই থেকে যায়। তবে এর আগের একাডেমিক পর্বের সবটুকুই আমরা এ সেক্টরের দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান, যুগোপযোগী কারিকুলাম ও উপযুক্ত পরিবেশের সমন্বয়ে সুসম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”

শান্ত-মারিয়ামের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহ-ই-আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আজকের উদ্যোগকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য পি.এন. কম্পোজিট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠান আজকের এই সমঝোতা চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশের আরএমজি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি এ অগ্রযাত্রার সাফল্য কামনা করেন।

উপস্থিতিদের পরিচয় পর্ব ও স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষে পি.এন. কম্পোজিট লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার এবং শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে পি.এন. কম্পোজিটের জিএম—মার্কেটিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং জেমস বাড়ৈ এবং কনসালট্যান্ট বিএম শরিফ তাঁদের তৈরি পোশাকের গুণগত মান, চাহিদা ও ক্রমোন্নতি এবং তাঁদের পেশাদার দক্ষ কর্মীদের কাজের অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আজকের এই চুক্তিকে গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিশির কুমার ভট্টাচার্য এবং আয়োজক এফডিটি ও এএমএমটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান যথাক্রমে আফরোজা হক ডেইজি ও ফারজানা মিতা নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে দেশে এ শিক্ষার গুরুত্ব ও চাহিদার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

অতঃপর এএমএমটি ডিপার্টমেন্টের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার রেশাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শেষ হয় অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে।