সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সফল মাঠ গবেষণা সম্পন্ন খাগড়াছড়ি ও সাজেকে

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি
সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা ১ জুলাই থেকে ৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও সাজেক অঞ্চলে একটি সফল মাঠ গবেষণা (Field Work) সম্পন্ন করে। মাঠ গবেষণাটি নিম্নোক্ত দুটি গবেষণা বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়—

Culture, Economy and Social Problems in the Hill Tracts: An Empirical Study of the Ethnic Communities of Khagrachari and Sajek
Livelihood, Identity and Social Issues among Ethnic Communities: A Field Study in Khagrachari and Sajek

এই গবেষণা কার্যক্রমটি সম্পূর্ণভাবে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-এর সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।

মাঠ গবেষণার সূচনায় ইনস্টিটিউটের পরিচালক জনাব Nyo Hla Mong স্যার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি তথ্যবহুল ব্রিফিং সেশন পরিচালনা করেন। উক্ত সেশনে তিনি খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক কাঠামো, ঐতিহ্য, ভাষা, উৎসব এবং সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের গবেষণা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকে আরও কার্যকর করে তোলে।

এছাড়াও, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, পোশাক, বাদ্যযন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে জানার ও অনুধাবনের একটি মূল্যবান সুযোগ লাভ করে।

মাঠ গবেষণার সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ (Participant Observation), ফোকাস গ্রুপ আলোচনা (FGD) এবং স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গবেষণার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

সর্বশেষে, মাঠ গবেষণার সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে নিরাপদে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে।

এই মাঠ গবেষণা শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় করার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবিকা, পরিচয়, অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।