প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমামুল কবীর শান্ত’র ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ইমামুল কবীর শান্ত’র সাথে পরিচয়ের ব্যাপ্তি খুব দীর্ঘ না হলেও আমাদের মধ্যে ছিলো অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত’র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী।
তিনি বলেন, ইমামুল কবীর দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রথমেই তরুণ প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে তিনি ক্যারিয়ার বান্ধব শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি হয়’ দেশব্যাপী এমন ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন।
শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি. এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইমামুল কবীর শান্ত এর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের উপর স্মৃতিচারণমূলক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরেণ্য চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী।
দিবসটি উপলক্ষে আজ ১৪ জুন (রবিবার) বিকেলে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে দোয়া, স্মরণসভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও ডকুমেন্টারী ‘দীপ্তপ্রাণ’ প্রদর্শণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অতঃপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি. এর চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডা. মোঃ আহসানুল কবির।
মরহুমের জীবন ও কর্মের উপর অত্যন্ত আবেগঘণ ও অনুপ্রেরণামূলক আলোচনায় অংশ নেন শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দসহ শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস প্রাঃ লিঃ এর কর্মকর্তাগণ এবং মরহুমের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে মিশেছেন-কাজ করেছেন, এমন প্রিয়ভাজন ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা। এ সময় ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী-কে তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ও কর্মের মাধ্যমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইমামুল কবীর শান্ত সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়।

শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের ডিন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান ও শান্ত-মারিয়াম হংহো কনফুসিয়াস ক্লাসরুমের চীনা পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ওয়াং লিছিয়োংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।অবশেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম ও মরহুমের কবর জিয়ারতসহ দোয়া ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন একযোগে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি. এর উর্ধতন কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ।
উল্লেখ্য, এই বীর মুক্তিযোদ্ধা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩০ মে ২০২০ সালে ঢাকা সিএমএইচে ইন্তেকাল করেন। সেদিনই বিকেলে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ সালে ঢাকার নাখালপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  
ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সৃজনশীল সফল উদ্যোক্তা, শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কর্মমুখী শিক্ষার বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি পর্যায়ক্রমে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি., দৈনিক আজকের প্রত্যাশা, শান্ত-মারিয়াম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, শান্ত-মারিয়াম স্কুল অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এবং শিশু ও বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘শান্তনিবাস’সহ একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।