বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরকে পরিবেশবান্ধব করতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি নির্বাচিত দলের অংশগ্রহণে নতুন ভাবনা উপস্থাপন ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের মাধ্যমে গতকাল শেষ হয়েছে টেক্সটাইল হ্যাকাথনের দ্বিতীয় আসর। এতে বিজয়ী হয়েছে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির দল ‘গ্রিন ওয়েভ’
অভূতপূর্ব এই অর্জনে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মেধাবী বিজয়ী দল ‘গ্রিন ওয়েভকে জানায় উস্ন অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
সার্কুলার ফ্যাশনে নতুন উদ্ভাবন ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি সম্পর্ককে মজবুত করতে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয় টেক্সটাইল হ্যাকাথনের দ্বিতীয় কোহর্টের চূড়ান্ত পর্ব। এবারের আসরে বিজয়ী হয়েছে শতভাগ রাসায়নিক মুক্ত (chemical free) কাপড় নিয়ে কাজ করা শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির দল ‘গ্রিন ওয়েভ’। রানার্সআপ হয়েছে রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দল ‘ফ্যাব-বোর্ড’। এ ছাড়া পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বিইউএফটির ‘ফ্যাব ফাইভ’।
তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরপুর এ প্রতিযোগীতায় শান্ত- মারিয়াম ইউনিভার্সিটির বিজয়ী দলে ছিলেন- ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি প্রোগ্রামের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনিয়া জামান, সানজিদা খানম রুনা, হাফসা মেহজাবিন, মুস্তাইন বিন তাজদিত ও আজমিয়া তানী।
‘গ্রিন ওয়েভ’ শতভাগ রাসায়নিক মুক্ত (chemical free) কাপড় নিয়ে কাজ করেছে। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। দলটি কৃষিবর্জ্য- কলাগাছের কাণ্ড ও আনারস থেকে পাওয়া তন্তুকে সমন্বয় করেছে রিসাইকেলড কটনের সঙ্গে। তারপর প্রাকৃতিক এনজাইম ব্যবহার করে সেগুলো নরম করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কেমিক্যাল ছাড়াই তারা তৈরি করেছে এই প্রোটোটাইপ।
টেক্সটাইল হ্যাকাথনের চূড়ান্ত পর্বে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১৩টি দল অংশ নেয়। দলগুলো প্রথমে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে বিচারকদের সামনে। এরপর শুরু হয় ‘প্রোটোটাইপ মার্কেটপ্লেস’ ও নেটওয়ার্কিং পর্ব। আয়োজনের এ পর্যায়ে উপস্থিত ইন্ডাস্ট্রি লিডারস, এক্সপার্টস, একাডেমিকস ও ব্র্যান্ড রিপ্রেজেন্টেটিভস প্রতিযোগী দলগুলোর ভাবনা ও প্রোটোটাইপগুলো সম্পর্কে খুঁটিনাটি অবগত হন ও নম্বর দেন এবং সেই নম্বর একত্র করে ঘোষণা করা হয় টেক্সটাইল হ্যাকাথন কোহর্ট ২-এর চ্যাম্পিয়ন দল রানার্সআপ ও পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড।
হ্যাকাথনে এবারের থিম ছিল বিগিনিং অব লাইফ। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কীভাবে বর্জ্য কমানো যায়, সে ভাবনা থেকেই প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন শিক্ষার্থীরা।
